রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
আমানতের গুরুত্ব জানলে, আপনি আজ থেকেই বদলে যাবেন!
অনলাইন ডেস্ক
আমানত হচ্ছে ঈমানের পূর্ণতা ও ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য, যা মানবজীবনে জান-মাল, ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রকৃত হকদার তার অধিকার ফিরে পায় এবং যোগ্য মানুষ ন্যায্য স্থানে অধিষ্ঠিত হয়। এর ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে ভারসাম্য ও শান্তির আবাস গড়ে ওঠে।
‘আমানত’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ বিশ্বস্ততা, নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা। এটি খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতার সম্পূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ।
ইসলামী দৃষ্টিতে আমানত এমন প্রত্যেক দায়িত্ব বা কর্তব্য যা আল্লাহ বান্দার ওপর ফরজ করেছেন। যেমন—নামাজ, রোজা, জাকাত, ঋণ পরিশোধ। কেউ কেউ বলেন, আমানত মানে এমন বিষয়, যা কারো জিম্মায় গচ্ছিত থাকে—সম্পদ, নিষিদ্ধ বস্তু বা গোপন তথ্য।
(তথ্যসূত্র: কিতাবুল কুল্লিয়াত, পৃষ্ঠা ১৭৬)
আমানত আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আকাশ, পৃথিবী ও পর্বতের কাছে আমানতের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তারা তা বহনে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু মানুষ তা গ্রহণ করে নেয়। নিশ্চয়ই সে বড়ই জালিম ও অজ্ঞ।’
(সূরা আহযাব, আয়াত ৭২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসিত হতে হবে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন—নেতা, স্বামী, স্ত্রী, কর্মচারী, বিচারক—প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন।
(বুখারি, হাদিস ৭১৩৮)
মা-বাবার আমানত সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। শিক্ষকের দায়িত্ব ছাত্রদের প্রাপ্য জ্ঞান দেওয়া, আর্থিক মোহে অন্যায় না করা। ব্যবসায়ী যেন ভেজাল ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকে এবং ওজনে কম না দেয়। শ্রমিকের উচিত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা এবং মালিকের ক্ষতি না করা। কারণ, প্রতিটি দায়িত্বই এক একটি আমানত, যার জবাবদিহি হবে আল্লাহর দরবারে।
আল্লাহ বলেন, ‘সত্যিকারের মুমিনরা সেইসব, যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।’
(সূরা মুমিনুন, আয়াত ৮)
হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নাজরানের দুই নেতা রাসুল (সা.)-এর কাছে অনুরোধ করেন যেন তিনি তাদের কাছে একজন আমানতদার পাঠান। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আবু উবায়দাহ উঠে দাঁড়াও, তিনিই এই উম্মতের সবচেয়ে আমানতদার ব্যক্তি।’
(বুখারি, হাদিস ৪৩৮০)
আমানতের অবমূল্যায়ন মানেই জাতির পতন
আজ দেশে অযোগ্যরা টাকার জোরে মেধাবীদের জায়গা দখল করছে। যোগ্যরা বঞ্চিত, সমাজে চলে অযোগ্যদের আধিপত্য। এর পরিণতি ভয়াবহ।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমানত ধ্বংস হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।’ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘যখন দায়িত্ব অযোগ্যদের হাতে যাবে।’
(বুখারি, হাদিস ৬৪৯৬)
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ উটের মতো, শত উটের মধ্যে একটি বাহনের উপযুক্ত পাওয়া যায় না।’
(বুখারি, হাদিস ৬৪৯৮)
অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষ বাহ্যিকভাবে সুদর্শন হলেও আমানত রক্ষায় তারা ব্যর্থ। সমাজে প্রকৃত বিশ্বস্ততা ও দায়িত্বশীলতা আজ এক বিরল গুণ।